মুঘল পরবর্তী সময়ে কয়েকটি আঞ্চলিক শক্তির বিকাশ - শিখ জাতি || Regional uprising in the later Mughal period - The Sikhs


শিখদের উত্থান : মধ্যযুগে ভক্তি আন্দোলনকালে একেশ্বরবাদের উপর ভিত্তি করে গুরু নানক শিখ ধর্মের প্রবর্তন করেন। তিনি অঙ্গদকে পরবর্তী গুরু বলে মনোনীত করে যান। অঙ্গদ কে গুরুমুখী বর্ণমালার স্রষ্টা বলা হয়। পরবর্তী গুরু অমরদাস মোগল সম্রাট আকবরের সংস্পর্শে আসেন। আকবর অমৃতসরের একটি পুষ্করিণী সহ কিছু জমি তাকে দান করেন। পরবর্তী গুরু রামদাস এই স্থানে অমৃতসরের বিখ্যাত স্বর্ণমন্দির টি তৈরি করেন।

গুরু অর্জুন : গুরু অর্জুন ছিলেন রামদাসের পুত্র এবং এই সময় থেকে গুরুপদ বংশানুক্রমিক হয়ে পড়ে। তিনি তার নিজের ও পূর্ববর্তী গুরুদের উপদেশ সংকলিত করে আদিগ্রন্থ বা গ্রন্থসাহেব প্রণয়ন করেন । শিখ মন্দির বা গুরুদ্বার রক্ষা ও পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রত্যেক শিখ কে বাধ্যতামূলক চাঁদা’ বা দানের নিয়ম প্রবর্তন করেন । মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের বিদ্রোহী পুত্র খসরুকে সাহায্য করার অপরাধে জাহাঙ্গীর তার প্রাণদণ্ড দেন।

গুরু হরগোবিন্দ : গুরু হরগোবিন্দ ছিলেন গুরু অর্জুনের পুত্র । শিখদের নিয়ে তিনি একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন এবং লৌহগর নামে একটি শক্তিশালী দুর্গ নির্মাণ করেন। তার রাজনৈতিক কার্যকলাপে ক্ষুব্দ হয়ে জাহাঙ্গীর তাকে কয়েক বৎসর গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী করে রাখেন। পরে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। শাহজাহানের রাজত্বকালে শিখদের সঙ্গে মুঘলদের সংঘর্ষ বাধে। শাহজাহান হিন্দুদের ওপর অত্যাচার শুরু করলে তিনি হিন্দুদের রক্ষা করতে 1634 খ্রিস্টাব্দে মোগল বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। পাঞ্জাবের পার্বত্য অঞ্চলে কর্তারপুর নামক স্থানে নতুন কর্মকেন্দ্র স্থাপন করেন এবং 1644 খ্রিস্টাব্দে তার মৃত্যু হয়।

হররায় : পরবর্তী গুরু হররায় মোগলদের সঙ্গে শান্তি বজায় রেখে চলেছিলেন। শাহজাহানের পুত্রদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তিনি দারার পক্ষ অবলম্বন করেন। এই অপরাধে ঔরঙ্গজেব তাকে হত্যা করেন।

হরকিষণ : হরকিষণ ছিলেন অষ্টম গুরু।

তেগ বাহাদুর : কাশ্মীরের ব্রাহ্মণরা ঔরঙ্গজেবের ধর্মান্ধতার প্রতিবাদ করলে তিনি তাদের সমর্থন জানান। এই অপরাধে তাকে বন্দি করা হয়। ঔরঙ্গজেব তাকে হয় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ বা মৃত্যুবরণ, যেকোনো একটি গ্রহণ করতে বলেন। তিনি মৃত্যুবরণই বেছে নেন। 1675 খ্রিস্টাব্দে দিল্লির লালকেল্লার অদূরে তার শিরচ্ছেদ করা হয়। এজন্য বলা হয় – “গুরু শির দিয়া, সার (ধর্ম) না দিয়া” ।

গুরু গোবিন্দ সিংহ : পিতা তেগ বাহাদুরের মৃত্যুর পর গোবিন্দ সিংহ গুরু পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি শিখদের নিয়ে ‘খালসা’ নামে এক সামরিক বাহিনী গড়ে তোলেন। 'খালসা' কথার অর্থ পবিত্র। গুরু গোবিন্দ সিংহ শিখদের জন্য পঞ্চ ক এর প্রবর্তন করেন - কেশ (লম্বা চুল), কঙ্কতী (চিরুনি), কৃপাণ (তরবারি), কচ্ছ (খাটো পায়জামা) এবং কড় (লোহার বালা)। শিখদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথা দূর করার জন্য জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিখকে তিনি সিং বা সিংহ উপাধি ব্যবহারের নির্দেশ দেন। মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে তিনি বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেন। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর বাহাদুর শাহের সঙ্গে তার মিত্রতা স্থাপিত হয়। 1708 খ্রিস্টাব্দে সম্রাটের সঙ্গে দাক্ষিণাত্যে গমনকালে জনৈক আফগান আততায়ীর হাতে তার মৃত্যু ঘটে।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.