গুপ্ত সাম্রাজ্য || Gupta Empire


গুপ্ত সাম্রাজ্য : শ্রী গুপ্ত হলেন গুপ্ত বংশের প্রতিষ্ঠাতা ‌।

প্রথম চন্দ্রগুপ্ত : 319 – 320  খ্রিস্টাব্দে প্রথম চন্দ্র গুপ্ত গুপ্ত সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। এই সময় থেকেই গুপ্তাব্দ গোনা শুরু হয় । তিনি ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন । সম্ভবত 335 খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রথম চন্দ্রগুপ্তের শাসন চলেছিল।

সমুদ্র গুপ্ত : প্রথম চন্দ্রগুপ্তের পুত্র সমুদ্রগুপ্তের আমলে গুপ্ত সাম্রাজ্য আরো বড় আকার নেয় । তিনি উত্তর ভারত বা আর্যাবর্তের ন জন শাসক, অরণ্য বা আটবিক রাজ্যগুলি ও দক্ষিণ ভারতের 12 জন রাজাকে হারিয়ে দেন । পূর্বের রাঢ় থেকে পশ্চিমের গঙ্গা উপত্যকার উপরের অংশ পর্যন্ত এবং দক্ষিনে তামিলনাড়ুর উত্তরপূর্ব অংশ পর্যন্ত গুপ্তদের অধিকার কায়েম হয় । 'পরাক্রমাঙ্ক', ‘কবিরাজ', 'লিচ্ছবি দৌহিত্র' সমুদ্রগুপ্তের উপাধি ছিল । তাকে ভারতের নেপোলিয়ন বলা হয় । তিনি ছিলেন গুপ্ত যুগের শ্রেষ্ঠ রাজা ।

দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত : সমুদ্রগুপ্তের ছেলে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত 376 খ্রিস্টাব্দ নাগাদ গুপ্ত সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন । তিনি গুজরাট অঞ্চল থেকে শক-ক্ষত্রপ শাসকদের উচ্ছেদ করেছিলেন, এজন্য তাকে শকারি বলা হয় । তিনি উজ্জয়িনের ক্ষত্রপ রাজা তৃতীয় রুদ্রসিংহকে পরাজিত করে ' বিক্রমাদিত্য ' উপাধি ধারণ করেন । তিনি 'সিংহ বিক্রম' উপাধিও ধারণ করেছিলেন । তার আমলে প্রথম রুপার মুদ্রা চালু হয় । সম্ভবত শকদের হারিয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসাবে 410-411 খ্রিস্টাব্দে তিনি রুপার মুদ্রা চালু করেন । তার আমলে চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন ভারতে আসেন । ফা-হিয়েন এর লেখা ভ্রমণকাহিনীর নাম ‘ফো-কুও-কি' । দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজসভায় যে নয় জন মনীষী ছিলেন তাদেরকে নবরত্ন বলা হয় । নবরত্নগণ হলেন – অমরসিংহ, কালীদাস, ক্ষপনখ, ঘটকপর, ধন্বন্তরি, বরাহমিহির, বররুচি, বেতালভট্ট ও শঙ্কু ।

প্রথম কুমার গুপ্ত : দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের পর সম্রাট হন প্রথম কুমার গুপ্ত । তার আমলে নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । তিনি ‘মহেন্দ্রাদিত‍্য' উপাধি গ্রহণ করে ছিলেন ।

স্কন্ধগুপ্ত : প্রথম কুমার গুপ্তের পর তার পুত্র স্কন্দগুপ্ত রাজা হন । আনুমানিক 458 খ্রিস্টাব্দে হুনরা ভারতবর্ষ আক্রমণ করে  । স্কন্দগুপ্ত এই আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন । এজন‍্য তাকে ‘ভারতের রক্ষাকারী' বলা হয় ।
•বিষ্ণু গুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শেষ রাজা ।

এলাহাবাদ প্রশস্তি : সমুদ্র গুপ্তের সভাকবি হরিসেন এই প্রসস্তির রচয়িতা । লেখাটি গুপ্ত যুগের ব্রাহ্মী লিপিতে ও সংস্কৃত ভাষায় রচিত । এলাহাবাদের কৌশাম্বী গ্রামে লেখটি ছিল । পরবর্তী কালে মুঘল সম্রাট আকবর সেটিকে তুলে এনে এলাহাবাদ দূর্গের মধ্যে রাখেন । গদ্য ও পদ‍্য উভয় ভাষায় এটি লেখা  ।

গুপ্ত যুগের সাহিত্য :
• কালিদাস     - অভিজ্ঞান শকুন্তলম, ঋতুসংহার, মেঘদূতম্, কুমারসম্ভবম, মালবিকাগ্নিমিত্রম, রঘুবংশম্, বিক্রমায়ুর্ভাশি
• শূদ্রক     - মৃচ্ছকটিক
• ভারবি     - কিরিতার্জুনিয়
• দন্ডিন     - কাব্যদর্শন, দশকুমারচরিত
• ভাষা     - চারুদত্ত
• বিশাখদত্ত     - মুদ্রারাক্ষস, দেবীচন্দ্রগুপ্তম
• বিষ্ণু শর্মা     - পঞ্চতন্ত্র, হিতোপদেশ
• অমর সিংহ     - অমরকোষ
• আর্য ভট্ট     - সূর্যসিদ্ধান্ত
• বরাহমিহির     - পঞ্চসিদ্ধান্তিকা, বৃহৎসংহিতা
• ব্রহ্মগুপ্ত      –  ব্রক্ষ্ম-স্ফুট সিদ্ধান্ত
• পালাকাপ‍্য     - হস্তী আয়ুর্বেদ

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.