জৈব রসায়ন || Organic Chemistry


• বিজ্ঞানী ল্যাভয়সিয়ে জৈব যৌগের বিশ্লেষণ করে দেখান যে, সব জৈব যৌগগুলির মধ্যে কার্বন আছে।
• বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস বলেন যে, প্রাণ শক্তির সাহায্য ছাড়া জৈব যৌগ গুলি উৎপন্ন করা যায় না।
• 1828 খ্রিস্টাব্দে উহলার (Wohler) অ্যামোনিয়াম সায়ানেট থেকে ইউরিয়া প্রস্তুত করে দেখান যে, পরীক্ষাগারে জৈব যৌগ তৈরি করা যায়।
• 1845 খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী কোলবে সর্বপ্রথম অ্যাসিটিক অ্যাসিড প্রস্তুত করেন।
• বিজ্ঞানী বার্থেলো সর্বপ্রথম মিথেন গ্যাস প্রস্তুত করেন।
• কার্বনের অক্সাইড, ধাতব কার্বনেট এবং বাই কার্বনেট, ধাতব সায়ানাইড লবণ ছাড়া কার্বন দ্বারা গঠিত যৌগ গুলিকে জৈব যৌগ বলা হয়।
• স্টার্চের আণবিক সংকেত C₁₂₀₀H₂₀₀₀O₁₀₀₀ ।
• প্রাণীদের চলাচল করার জন্য এবং দেহের পেশী সঞ্চালন করার জন্য যে শক্তির দরকার তা স্থিতি শক্তি হিসাবে A.T.P. ( Adenosine Triphosphate ) নামক একটি জৈব যৌগের মধ্যে সঞ্চিত থাকে। এই A.T.P. থেকে জোনাকি পোকার দেহে আলো সৃষ্টি হয় এবং সমুদ্রের বৈদ্যুতিক মাছের দেহে তড়িৎ শক্তির সৃষ্টি হয়।
• ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক কুইনাইন, টাইফয়েডের প্রতিষেধক ক্লোরোমাইসিটিন, যক্ষার প্রতিশেধক স্ট্রেপটোমাইসিন প্রভৃতি এবং অস্ত্র চিকিৎসার সময় ব্যবহৃত চেতনানাশক পদার্থ ক্লোরোফর্ম, ইথার প্রভৃতি সবই জৈব যৌগ।
• বহু সংখ্যক কার্বন পরমাণু নিজেদের মধ্যে পরস্পর একযোজী, দ্বিযোজী বা ত্রিযোজী বন্ধনের সাহায্যে পরস্পর যুক্ত হতে পারে। কার্বন পরমাণুর এই ধর্মকে ক্যাটিনেশন ধর্ম বলে।
• জৈব যৌগে দেখা যায়, একই রকম মৌল একই ওজন অনুপাতে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জৈব যৌগ উৎপন্ন করে। এই ঘটনাকে সমাবয়বতা বলে। যেমন - ইথাইল অ্যালকোহল এবং ডাইমিথাইল ইথার এই দুটি যৌগের সংকেত C₂H₆O ।
• জৈব যৌগ গুলির বেশিরভাগ জলে অদ্রাব্য। কিন্তু কোহল, বেঞ্জিন প্রভৃতি জৈব দ্রাবকে দ্রাব্য।
• জৈব যৌগ মাত্রই বেশি তাপমাত্রায় বিয়োজিত হয়ে CO₂ উৎপন্ন করে।
• অসংখ্য জৈব যৌগ কে ওদের রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে কতকগুলি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। এই শ্রেণীগুলিকে সমগোত্র শ্রেণী বলে। এরকম প্রতিটি শ্রেণীর যৌগগুলির মধ্যে একটি বিশেষ মূলক উপস্থিত থাকে একে কার্যকরী মূলক বলে।

কয়েকটি কার্যকরী মূলক :
1. হাইড্রক্সিল - OH
2. অ্যালডিহাইড - CHO
3. কার্বনিল - CO
4. কার্বক্সিল - COOH
5. নাইট্রো – NO₂
6. অ্যামিনো – NH₂
7. সায়ানো - CN
8. অ্যালকক্সি - O

• কার্বনের যোজ্যতা সর্বদা চার হয়। কার্বন এর পাশাপাশি দুটি যোজ্যতা বন্ধন এর মাঝের কোন 109°28’ হয়।

জৈব যৌগের শ্রেণীবিভাগ :
• অসংখ্য জৈব যৌগ কে মোটামুটি দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় –
1. মুক্ত শৃঙ্খল যৌগ বা অ্যালিফ্যাটিক যৌগ
2. বৃত্তাকার শৃঙ্খল যৌগ বা সাইক্লিক যৌগ।
• মুক্ত শৃংখল যৌগকে আবার দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যায় –
1. সম্পৃক্ত যৌগ
2. অসম্পৃক্ত যৌগ।

• যে জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু গুলি পরস্পরের সঙ্গে সমযোজী এক বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে, তাদের সম্পৃক্ত যৌগ বলে। যেমন – মিথেন, ইথেন, প্রোপেন প্রভৃতি।
• কার্বন এবং হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগকে হাইড্রোকার্বন বলে।
• যে জৈব যৌগে অন্তত দুটি কার্বন পরমাণু পরস্পরের সঙ্গে দ্বিবন্ধন বা ত্রিবন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে, তাদের অসম্পৃক্ত যৌগ বলে যেমন – ইথিলিন, অ্যাসিটিলিন।
• দুটি কার্বন পরমাণু দ্বিবন্ধন দ্বারা পরস্পর যুক্ত হলে, তাকে অলিফিন বা অ্যালকিন বলে। যেমন – ইথিলিন, প্রোপিলিন।
• দুটি কার্বন পরমাণু পরস্পর ত্রিবন্ধন দ্বারা যুক্ত হলে, তাকে অ্যালকাইন বা অ্যাসিটিলিনস বলে। যেমন - অ্যাসিটিলিন।
• সাইক্লিক বা বৃত্তাকার শৃঙ্খল যৌগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় –
1. হোমোসাইক্লিক যৌগ
2. হেটারোসাইক্লিক যৌগ।
• বৃত্তাকার সারি শুধু কার্বন পরমাণু দিয়ে গঠিত হলে তাদের কার্বোসাইক্লিক বা হোমোসাইক্লিক যৌগ বলে।
• হোমো সাইক্লিক যৌগ দুই রকমের হয় –
1. অ্যারোমেটিক
2. অ্যালিসাইক্লিক।

• অ্যারোমেটিক জাতীয় যৌগের মধ্যে 6 টি কার্বন পরমাণু একযোজী এবং দ্বিযোজী বন্ধনের সাহায্যে কার্বন শৃঙ্খল ষড়ভূজ গঠন করে। একে বেঞ্জিন রিং বলে। যেসব জৈব যৌগের মধ্যে এরকম বেঞ্জিন রিং থাকে তাদের অ্যারোমেটিক যৌগ বলে। যেমন – বেঞ্জিন, টলুইন।
• বেঞ্জিন রিং ছাড়া অন্যান্য বৃত্তাকার কার্বোসাইক্লিক যৌগ কে অ্যালিসাইক্লিক যৌগ বলে। যেমন – সাইক্লোবিউটেন, সাইক্লোহেক্সেন।
• অনেক সময় বৃত্তাকার সারি গঠনে কার্বন পরমাণুর সঙ্গে অক্সিজেন, সালফার, নাইট্রোজেন পরমাণুও অংশগ্রহণ করে। এদের হিটারোসাইক্লিক যৌগ বলে। যেমন – থাইওফিন (সালফার থাকে), ফিউরান (অক্সিজেন থাকে), পিরিডিন (নাইট্রোজেন থাকে) ইত্যাদি।

কয়েকটি সাধারণ জৈব যৌগ :
মিথেন (CH₄):
• জৈব যৌগের মধ্যে সরলতম যৌগ হল মিথেন।
• অ্যালকেন বা প্যারাফিন সমগোত্র শ্রেণীর প্রথম যৌগ হল মিথেন।
• মিথেন হল সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন।
• মিথেন বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং বায়ুর চেয়ে হালকা দাহ্য গ্যাস।
• পেট্রোলিয়ামের খনি থেকে নির্গত প্রাকৃতিক গ্যাসের মধ্যে প্রায় 85% মিথেন থাকে।
• কোল গ্যাসের মধ্যে প্রায় 40% মিথেন থাকে।
• গোবর গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
• জলাভূমিতে গাছের পাতা এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ জলের নিচে পঁচে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। এজন্য একে মার্স গ্যাস বলে।
• জলাভূমি থেকে উৎপন্ন মার্স গ্যাসের মধ্যে ফসফিন এবং ফসফরাস ডাই হাইড্রাইড (P₂H₄) গ্যাস মেশানো থাকে। ফসফরাস ডাই হাইড্রাইড বাতাসের সংস্পর্শে এসে জ্বলে ওঠে এবং ফসফিন ও মিথেন উভয়েই দাহ্য বলে এতে আগুন লেগে যায়। একে আমরা আলেয়া বলি।
• পরীক্ষাগারে শুষ্ক সোডিয়াম অ্যাসিটেট কে সোডালাইমের সঙ্গে উত্তপ্ত করে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করা হয়।
• মিথেন গ্যাস জ্বালানি রূপে ব্যবহৃত হয়, হাইড্রোজেনের পণ্য উৎপাদনে মিথেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
• মিথেনের অসম্পূর্ণ দহনে কার্বন ব্ল্যাক উৎপন্ন হয়। কার্বন ব্ল্যাক মোটর গাড়ির টায়ার, টাইপ মেশিনের ফিতা, ছাপাখানার কালি, জুতার কালি এবং গ্রামোফোন রেকর্ড প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়।

ইথিলিন (C₂H₄) :
• ইথিলিন অলিফিন জাতীয় ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সরলতম যৌগ।
• একটি বর্ণহীন, মিষ্টি গন্ধযুক্ত দাহ্য গ্যাস।
• পেট্রোলিয়ামের খনি থেকে নির্গত গ্যাসের মধ্যে এবং কোল গ্যাসের মধ্যে ইথিলিন থাকে।
• ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে গাঢ় H₂SO₄ মিশিয়ে 160°C থেকে 170°C উষ্ণতায় উত্তপ্ত করলে ইথিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
• ফল কে পচন থেকে রক্ষা করতে এবং কাঁচা ফল পাকানোর জন্য ইথিলিন ব্যবহৃত হয়।
• অস্ত্র চিকিৎসায় 20% অক্সিজেনের সঙ্গে ইথিলিন মিশিয়ে চেতনানাশক ওষুধ রূপে ব্যবহৃত হয়।
• যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত মাস্টার্ড গ্যাস নামে বিষাক্ত গ্যাস প্রস্তুতিতে ইথিলিন ব্যবহৃত হয়।

অ্যাসিটিলিন (C₂H₂) :
• অ্যাসিটিলিন একটি অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন।
• এটি বর্ণহীন, মিষ্টি গন্ধযুক্ত দাহ্য গ্যাস।
• কোল গ্যাসের মধ্যে 0.01 পার্সেন্ট অ্যাসিটিলিন থাকে।
• পরীক্ষাগারে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের সঙ্গে জল মিশিয়ে অ্যাসিটিলিন প্রস্তুত করা হয়।
• অ্যাসিটালডিহাইড, অ্যাসেটিক অ্যাসিড, ওয়েস্ট্রেন, বেঞ্জিন, কৃত্রিম রাবার এবং প্লাস্টিক প্রস্তুতিতে অ্যাসিটিলিন ব্যবহৃত হয়।
• আলোক উৎপাদনে কার্বাইড গ্যাস রূপে এবং ঝালাইয়ের কাজে অক্সি অ্যাসিটিলিন শিখা উৎপাদনে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসিটিলিন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

ক্লোরোফর্ম (CHCl₃) :
• ক্লোরোফর্ম মিষ্টি গন্ধ যুক্ত, বর্ণহীন এবং অদাহ্য তরল।
• আলোর উপস্থিতিতে বায়ুর O₂ দ্বারা জারিত হয়ে ধীরে ধীরে কার্বনিল ক্লোরাইড (COCl₂)ডনামে বিষাক্ত গ্যাসে পরিণত হয়। এজন্য একে বাদামী বর্ণের বোতলের মধ্যে রাখা হয়।
• ইথাইল অ্যালকোহল বা অ্যাসিটোনের সঙ্গে ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে পাতিত করে ক্লোরোফর্ম প্রস্তুত করা হয়।
• শল্য চিকিৎসায় চেতনানাশক রূপে বিশুদ্ধ ক্লোরোফর্ম ব্যবহৃত হয়।
• জীববিদ্যায় নমুনা সংরক্ষণে ক্লোরোফর্ম ব্যবহৃত হয়।

ইথাইল অ্যালকোহল (C₂H₅OH) :
• এটি অ্যালকোহল জাতীয় যৌগ, জলে দ্রাব্য, প্রশম এবং দাহ্য তরল।
• গ্লুকোজ বা দ্রাক্ষা শর্করার জলীয় দ্রবণে ইস্ট নামে এককোষী উদ্ভিদ যোগ করে সন্ধান প্রক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়।
• লঘু ইথাইল অ্যালকোহল দ্রবণকে বারবার আংশিক পাতন করলে 95.6% ইথাইল অ্যালকোহল উৎপন্ন হয়। একে রেকটিফায়েড স্পিরিট বলে।
• ইথার, ক্লোরোফর্ম, অ্যাসিটালডিহাইড, আয়োডোফর্ম প্রভৃতি জৈব যৌগ প্রস্তুতিতে, বিভিন্ন রকম রং ও বার্নিশ শিল্পে, স্বচ্ছ সাবান প্রস্তুতিতে, ধোঁয়াহীন বারুদ প্রস্তুতিতে, নানা রকম পানীয় মদ্য যেমন – বিয়ার, হুইস্কি, ব্রান্ডি প্রস্তুতিতে, মেথিলেটেড স্পিরিট, নানা রকম সুগন্ধি দ্রব্য, কৃত্রিম রাবার, রেয়ন প্রস্তুতিতে, রজন, গালা এবং অন্যান্য জৈব যৌগের দ্রাবকরূপে, স্পিরিট ল্যাম্প এবং স্টোভে জ্বালানি রূপে ইথাইল অ্যালকোহল ব্যবহৃত হয়।

গ্লিসারল (C₃H₈O₃):
• গ্লিসারল হল মিষ্টি স্বাদ বিশিষ্ট, বর্ণহীন এবং অ্যালকোহল জাতীয় যৌগ।
• উদ্ভিজ্জ তেল এবং প্রাণিজ তেল বা চর্বিতে গ্লিসারল বিভিন্ন জৈব অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় গ্লিসারাইড নামে এস্টার জাতীয় যৌগরূপে বর্তমান থাকে।
• তীব্র ক্ষার দ্রবণের সাহায্যে তেল বা চর্বির আর্দ্র বিশ্লেষণ করে গ্লিসারল পাওয়া যায়। এই বিক্রিয়াকে সাবাণীভবন বলা হয়।
• নাইট্রোগ্লিসারিন, ডিনামাইট প্রভৃতি বিস্ফোরক প্রস্তুতিতে, প্লাস্টিক শিল্পে, নানারকম প্রসাধন দ্রব্য এবং স্বচ্ছ সাবান প্রস্তুতিতে, ধোঁয়াহীন বারুদ প্রস্তুতিতে, সিগারেটের তামাক নরম ও আর্দ্র করতে, জুতা পালিশ, টাইপ মেশিনের ফিতা এবং চামড়া কে নরম রাখতে গ্লিসারল ব্যবহৃত হয়।

ভিনিগার (CH₃COOH):
• ভিনিগার হল কার্বক্সিলিক অ্যাসিড জাতীয় যৌগ।
• ভিনিগারে 4% থেকে 8% অ্যাসেটিক অ্যাসিড ও সামান্য অ্যালকোহল থাকে।
• কাঠের অন্তর্ধূম পাতনের ফলে প্রাপ্ত পাইরোলিগনিয়াস অ্যাসিডের মধ্যে 10% অ্যাসেটিক অ্যাসিড থাকে।
• ব্যাকটেরিয়াম অ্যাসেটি নামে এক রকম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা ইথাইল অ্যালকোহল জারিত হয়ে ভিনিগারে পরিণত হয়।
• রবার ঘন করতে এবং হোয়াইট লেড নামে সাদা রং প্রস্তুতিতে ভিনিগার ব্যবহৃত হয়।

গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆):
• গ্লুকোজ একটি কার্বোহাইড্রেট জাতীয় জৈব যৌগ এবং মিষ্টি স্বাদ বিশিষ্ট কেলাসিত পদার্থ।
• এর অণুতে একটি কার্বনিল মূলক (CO) এবং 5টি OH মূলক বর্তমান।
• পাকা আঙুরের রসে 20% থেকে 30% গ্লুকোজ থাকে।
• আলু, ভুট্টা, চাল প্রভৃতি থেকে প্রাপ্ত স্টার্চের আর্দ্র বিশ্লেষণ করে গ্লুকোজ পাওয়া যায়।
• লজেন্স, টফি, আচার, মিষ্টি, জেলি প্রভৃতি প্রস্তুতিতে, আয়নায় প্রলেপ দিতে, ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট, ভিটামিন সি প্রভৃতি প্রস্তুতিতে গ্লুকোজ ব্যবহৃত হয়।

ইউরিয়া (CO(NH₂)₂) :
• ইউরিয়া সাদা রঙের কেলাসিত পদার্থ।
• মানবদেহের এবং প্রাণীদেহের প্রোটিন বিশিষ্ট হয়ে ইউরিয়া উৎপন্ন হয় এবং প্রাণীদের মূত্রে এই যৌগটি পাওয়া যায়।
• একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের মূত্রের সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় 30 গ্রাম ইউরিয়া বের হয়ে যায়।
• শুষ্ক ও তরল অ্যামোনিয়া এবং কার্বন ডাই অক্সাইড এর মিশ্রণে চাপ প্রয়োগ করে, 200°C উষ্ণতায় উত্তপ্ত করলে ইউরিয়া উৎপন্ন হয়।
• ইউরিয়া সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• কালাজ্বরের ঔষধ ইউরিয়া স্টিবামিন এবং ঘুমের ওষুধ তৈরিতে ইউরিয়া ব্যবহৃত হয়।

বেঞ্জিন (C₆H₆):
• বেঞ্জিন বিশেষ গন্ধযুক্ত, উদ্বায়ী, বর্ণহীন এবং অ্যারোমেটিক যৌগের সরলতম হাইড্রোকার্বন।
• বিজ্ঞানী ফ্যারাডে তিমির তেল থেকে উৎপন্ন গ্যাসের মধ্যে বেঞ্জিন আবিষ্কার করেন।
• কয়লার অন্তর্ধূম পাতনের ফলে উৎপন্ন আলকাতরার আংশিক পাতন করে 170°C উষ্ণতায় যে পাতিত দ্রব্য পাওয়া যায়, তাকে লাইট অয়েল বলে। এই লাইট অয়েলে বেঞ্জিন থাকে।
• কাপড় ড্রাই ওয়াশ করতে, মোটরের জ্বালানিরূপে, ফেনল প্রস্তুতিতে, ফেনল থেকে নাইলন, প্লাস্টিক উৎপাদনে এবং কীটনাশক ওষুধ প্রস্তুতিতে বেঞ্জিন ব্যবহৃত হয়।

ফেনল বা কার্বলিক অ্যাসিড (C₆H₅OH):
• ফেনল বর্ণহীন এবং কেলাসিত পদার্থ। দেহের সংস্পর্শে এলে ক্ষতের সৃষ্টি করে।
• আলকাতরার আংশিক পাতনের ফলে 170°C থেকে 230°C উষ্ণতার মধ্যে যে পাতিত দ্রব্য পাওয়া যায়, তাকে মিডল অয়েল বলে। এই মিডল অয়েলের মধ্যে ফেনল থাকে।
• জীবানুনাশক রূপে, ব্যাকেলাইট প্রস্তুতিতে, কাঠ সংরক্ষণ এবং ছত্রাক ধ্বংসকারী ওষুধ পেন্টাক্লোরোফেনল প্রস্তুতিতে, ফিনলপথ্যালিন নামে সূচক এবং পিকরিক অ্যাসিড প্রস্তুতিতে, জীবাণুনাশক সাবান প্রস্তুতিতে, রবার ও নাইট্রোসেলুলোজের দ্রাবক সাইক্লোহেক্সানল প্রস্তুতিতে ফেনল ব্যবহৃত হয়।

ন্যাপথ্যালিন (C₁₀H₈):
• ন্যাপথালিন বিশেষ গন্ধযুক্ত, উদ্বায়ী অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।
• ন্যাপথ্যালিন দুটি বেনজিন রিং বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন।
• কোল গ্যাসের মধ্যে ন্যাপথ্যালিন পাওয়া যায়।
• আলকাতরার আংশিক পাতনের ফলে প্রাপ্ত মিডল অয়েলের মধ্যে ন্যাপথ্যালিন থাকে।
• কীটনাশক রূপে, থ্যালিক অ্যানহাইড্রাইড প্রস্তুতিতে, কাপড়, সিল্ক, কাগজ প্রভৃতির রঙ প্রস্তুতিতে, পোকার হাত থেকে জামা-কাপড় রক্ষা করতে এবং নীল প্রস্তুতিতে ন্যাপথ্যালিন ব্যবহৃত হয়।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.