ভারতের রাজনৈতিক বিভাগ এবং তার ক্রমবিবর্তন || Political Divisions of India and its Evolution


• 1950 সালে ভারত সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
• স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর শাসনতান্ত্রিক প্রয়োজনে ভারতের অঙ্গরাজ্য গুলির পুনর্গঠন এর কাজ শুরু হয়। ভাষা ছিল ভারতের রাজ্য পুনর্গঠন এর মূল ভিত্তি।
• গভর্নর শাসিত প্রদেশ গুলিকে ক শ্রেণীতে, দেশীয় রাজ্যগুলিকে খ শ্রেণীতে, চীফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ ও অংশত দেশীয় রাজ্যগুলিকে গ শ্রেনিতে এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জকে ঘ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
•   ব্রিটিশ ভারতের 552 টি ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ দেশি রাজ্যগুলিকে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠিত করে প্রথমে 20 টি অঙ্গরাজ্য সৃষ্টি করা হয়। 1948 খ্রিস্টাব্দে ছত্রিশগড় এবং 1950 খ্রিস্টাব্দে কোচবিহার রাজ্য কে যথাক্রমে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা হলে 1950 খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি পর্যন্ত মোট 18 টি অঙ্গরাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়ে ভারতীয় রাজ্য সংঘ গঠিত হয়।
• 1953 সালে মাদ্রাজ রাজ্যের কিছু অংশ নিয়ে প্রধানত ভাষার ভিত্তিতে নতুন রাজ্য অন্ধ্রের সৃষ্টি হয়।
• 1954 সালে হিমাচল প্রদেশের দুটি গ শ্রেণীভুক্ত রাজ্য ও বিলাসপুর কে একত্র করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিমাচল প্রদেশের সৃষ্টি করা হয়।
• 1953 খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন এর জন্য রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন(state reorganisation commission) গঠিত হয়। এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানত ভাষার ভিত্তিতে 1956 খ্রিস্টাব্দের 1লা নভেম্বর ভারতের রাজ্যগুলি পুনর্গঠন করা হয়। ত্রিবাঙ্কুর-কোচিন, মালাবার ও কানাড়া জেলা নিয়ে কেরালা নামে একটি নতুন রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
• 1956 খ্রিস্টাব্দের 1লা নভেম্বর ভারতের অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট 20টি, যাদের মধ্যে রাজ্যপাল শাসিত রাজ্য 14 টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল 6টি। এই সঙ্গে রাজ্যগুলির শ্রেণীবিভাগ ক, খ, গ, ঘ বিলুপ্ত হয়।
• 1957 সালে আসামের উত্তর-পূর্ব অংশ নিয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল (NEFA) এবং দক্ষিণ মধ্য অংশ নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নাগাল্যান্ড গঠিত হয়।
• 1960 সালে বোম্বাই রাজ্য কে ভাগ করে গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের সৃষ্টি করা হয়।
• 1962 সালে গোয়া, দমন ও দিউ, পন্ডিচেরি এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত হয়। চন্ডিগড় নামে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সৃষ্টি হয়।
• 1963 সালে নাগাল্যান্ড পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের স্বীকৃতি পায়।
• 1966 সালে পাঞ্জাবকে ভেঙে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
• 1968 সালে মাদ্রাজের নাম পাল্টে তামিলনাড়ু করা হয়।
• 1969 সালে আসাম এর কিছু অংশ নিয়ে মেঘালয় রাজ্যের সৃষ্টি করা হয়।
• 1970 সালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিমাচল প্রদেশ কে অন্য রাজ্যের মর্যাদা প্রদান করা হয়।
• 1971 সালে মনিপুর, ত্রিপুরা ও মেঘালয় পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পায়। মিজোরাম নামে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের (NEFA)  নাম পরিবর্তন করে অরুণাচল প্রদেশ রাখা হয়।
• 1973 সালে লক্কাদিভি, মিনিকয় ও আমিন দিভি দ্বীপপুঞ্জের নাম বদলে লাক্ষাদ্বীপ রাখা হয়। মহীশূর রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে কর্ণাটক রাখা হয়।
• 1975 সালে সিকিম ভারতের 22 তম অঙ্গরাজ্য পরিণত হয়।
• 1986 সালে মিজোরাম ভারতের 23 তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়।
• 1987 সালে অরুনাচল প্রদেশ ভারতের 24 তম অঙ্গরাজ্যে এবং গোয়া ভারতের 25 তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত হয়।
• 2000 সালে মধ্য প্রদেশের কিছু অংশ নিয়ে ছত্রিশগড়, উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশ নিয়ে উত্তরাঞ্চল এবং বিহারের কিছু অংশ নিয়ে ঝাড়খন্ড রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
• 2014 সালে তেলেঙ্গানা নামে ভারতের 29 তম রাজ্যের সৃষ্টি হয়।
• “ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটোরি অ্যাক্ট 1993” নামে একটি বিশেষ আইন অনুসারে বর্তমানে দিল্লি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হলেও এখানে মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভা বহাল রাখা হয়েছে।
• বর্তমানে ভারতে মোট রাজ্য সংখ্যা 29 টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সংখ্যা 7 টি।
• আয়তনের বিচারে রাজস্থান ভারতের বৃহত্তম রাজ্য এবং গোয়া ক্ষুদ্রতম রাজ্য।
• ভারতের রাজ্যপাল শাসিত রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল গুলির মধ্যে লাক্ষা দ্বীপের আয়তন (32 কিলোমিটার) এবং জনসংখ্যা সবচেয়ে কম।
• ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে উত্তর প্রদেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং সিকিমের জনসংখ্যা সবচেয়ে কম।
• জনঘনত্বের বিচারে পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি এবং অরুণাচল প্রদেশের জনঘনত্ব সবচেয়ে কম।
• আয়তনের বিচারে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ বৃহত্তম এবং লাক্ষাদ্বীপ ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
• কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলির মধ্যে দিল্লির জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং লাক্ষা দ্বীপের জনসংখ্যা সবচেয়ে কম।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.