ভারতে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বিপ্লব - ভারতে ইংরেজদের শিক্ষা নীতি || Cultural and Social Revolution in India - English Education policy in India


চার্টার অ্যাক্ট, 1813 : 1813 খ্রিস্টাব্দে চার্টার অ্যাক্ট পাশ হওয়ার পর ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে শিক্ষা ক্ষেত্রে বছরে এক লক্ষ্য টাকা খরচে সম্মত হয়। 1823 খ্রিস্টাব্দে মেকলের সভাপতিত্বে জেনারেল কমিটি অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (G.C.P.I) গঠিত হলে ঐ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়। 'মেকলে মিনিট' এর সুপারিশে 1835 খ্রিস্টাব্দে ‘কলকাতা মেডিকেল কলেজ' এবং ‘বোম্বে এলফিনস্টোন ইনস্টিটিউশন' স্থাপিত হয়। 1824 খ্রিস্টাব্দে লর্ড আমহার্স্ট প্রাচ্য শিক্ষা প্রসারের জন্য কলকাতায় সংস্কৃত কলেজ স্থাপন করলে রামমোহন তার বিরোধিতা করেন। ডেভিড হেয়ার ও রামমোহন রায়ের উদ্যোগে 1815 খ্রিস্টাব্দে 'অ্যাংলো – হিন্দু স্কুল' (1917 সালে এটির নাম হেয়ার স্কুল হয়), 1817 সালে 'হিন্দু কলেজ' এবং 1818 সালে 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার প্রসারে মিশনারিদের ভূমিকা : মিশনারিদের উদ্যোগে 1784 সালে উইলিয়াম জোন্স ' এশিয়াটিক সোসাইটি', 1781 সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ' কলকাতা মাদ্রাসা ', 1792 সালে জোনাথন ডানকান ' বেনারস সংস্কৃত কলেজ ', 1818 সালে উইলিয়াম কেরি ' শ্রীরামপুর কলেজ ', 1819 সালে মিডলটন ' বিশপস কলেজ অফ শিবপুর ', 1830 সালে আলেকজান্ডার ডাফ ' জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউট ' বা ' স্কটিশ চার্চ কলেজ ' স্থাপন করেন। ‘ সমাচার দর্পণ ' ও ' দিক দর্শন ' পত্রিকার মাধ্যমে জন মার্শম্যান পাশ্চাত্য শিক্ষার গুরুত্ব প্রচার করেন।

উডের ডেসপ্যাচ : 1854 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের 'বোর্ড অফ কন্ট্রোল' এর সভাপতি চার্লস উড তার প্রতিবেদনে নিম্নতম ও উচ্চতম শিক্ষার মধ্যে সমন্যয় ঘটানোর কথা বলেন। এটি 'Wood's Despatch' বা 'উডের প্রতিবেদন' নামে পরিচিত। উডের প্রতিবেদন অনুসারে 1857 খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বোম্বে এবং মাদ্রাজে তিনটি বিশ্ব বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। 1855 খ্রিস্টাব্দে ‘Director of Public Instruction' (D.P.I) গঠিত হয়।

হান্টার কমিশন : 1882 খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপনের সময় স্যার উইলয়াম হান্টারের নেতৃত্বে হান্টার কমিশন গঠিত হয়। এই কমিশনের রিপোর্টে স্কুল ও কলেজ গুলির উপর থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া এবং সরকারি অনুদানের সুপারিশ করা হয়।

র‍্যালে কমিশন : 1902 খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জন স্যার টমাস র‍্যালের নেতৃত্বে 'র‍্যালে কমিশন' গঠন করেন। এটি 'ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন' নামেও পরিচিত ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভারতীয় উপাচার্য স্যার গুরুদাস ব্যানার্জি ও সৈয়দ হুসেন বিলগ্রামী এই কমিশনের সদস্য ছিলেন। 1904 খ্রিস্টাব্দে এই কমিশনের সুপারিশে ' বিশ্ববিদ্যালয় আইন ' পাশ হয়। এই আইন অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়।

স্যাডলার কমিশন : বড়োলাট চেমস ফোর্ড – এর সময় 1917 খ্রিস্টাব্দে মাইকেল স্যাডলারের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠিত হয়। কেবল মাত্র কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় – এর শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কমিশন গঠিত হলেছিল, এজন্য একে ' কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ' ও বলাহয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ছিলেন জেমস উইলিয়াম কোলভিল।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত : 1910 খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার শিক্ষা বিভাগ নামে একটি নতুন দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। 1916 খ্রিস্টাব্দে আচর্য ধন্দ কেশব কার্ভে ও শ্রীমতি থ্যাকারসের উদ্যোগে বোম্বাইয়ে ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। 1921 খ্রিস্টাব্দে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

নারী শিক্ষার প্রসার : 1849 খ্রিস্টাব্দে বেথুন এর উদ্যোগে এবং ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রামগোপাল ঘোষ, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, শম্ভুনাথ পণ্ডিত ও মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর সহযোগিতায় হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। পরে এই বিদ্যালয়টি বেথুন গার্লস স্কুল নামে পরিচিত হয়। কেশব চন্দ্র সেন এর উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ নারী শিক্ষা বিস্তারে তৎপর হয়। এজন্য তিনি 'অন্তঃপুর স্ত্রী শিক্ষা সভা' ও 'ভিক্টোরিয়া কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন এবং 'বামাবোধিনী', 'অবলাবান্ধব', 'মহিলা' ও 'পরিচারিকা' প্রভৃতি পত্রিকার মাধ্যমে স্ত্রী শিক্ষার বিকাশে ভূমিকা গ্রহণ করেন। ব্রাহ্ম আন্দোলনের ফলে 1878 খ্রিস্টাব্দে মেয়েরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দানের সুযোগ পায়। 1883 খ্রিস্টাব্দে বাংলার দুই মহিলা চন্দ্রমুখি বসু ও কাদম্বিনি গঙ্গোপাধ্যায় প্রথম বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। 1904 খ্রিস্টাব্দে শ্রীমতি অ্যানি বেসান্ত বারাণসীতে সেন্ট্রাল হিন্দু গার্লস কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। 1916 খ্রিস্টাব্দে মেয়েদের জন্য দিল্লিতে লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়। 1916 খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক ডি. কে. কার্ভে বোম্বাইয়ে ভারতীয় মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

কারিগরি শিক্ষার প্রসার : লর্ড কার্জনের সময় বিহারের পুসায় 'ভারতের প্রথম কৃষি কলেজ' গড়ে উঠেছিল। 1847 খ্রিস্টাব্দে রুরকিতে এবং 1856 খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপিত হয়। 1880 খ্রিস্টাব্দে কলকাতার কলেজটি শিবপুরে স্থানান্তরিত হয় এবং এর নাম হয় শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। 1858 খ্রিস্টাব্দে পুনা এবং মাদ্রাজে দুটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ খোলা হয়। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের যুগে 1906 খ্রিস্টাব্দে যাদবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ (পূর্বে এর নাম ছিল বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, 1856 খ্রিষ্টাব্দ) স্থাপিত হয়।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.