মৌর্য পরবর্তী যুগে বৈদেশিক আক্রমণ || Later Mauryan Period : Invasion of Foreigners


মৌর্য পরবর্তী যুগে বৈদেশিক আক্রমণ : অশোকের মৃত্যুর পর মৌর্য সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একাধিক বৈদেশিক জাতি উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন অঞ্চল অধিকার করে । এদের মধ্যে ব্যাকট্রিয় গ্রিক, শক, পল্লব ও কুশানরা ছিল উল্লেখযোগ্য ।

ব্যাকট্রিয় গ্রিক : ব্যাকট্রিয় গ্রীকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য রাজা ছিলেন মিনান্দার বা মিলিন্দ । কাবুল ও পাঞ্জাব থেকে কাথিয়াবাড় পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল  । তার রাজধানী ছিল শাকল বা বর্তমান শিয়ালকোট । বৌদ্ধ ধর্মাচার্য নাগ সেন এর কাছে তিনি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন । বৌদ্ধ ধর্ম সম্বন্ধে নাগ সেন এর কাছে তার প্রশ্নাবলী ও নাগ সেন প্রদত্ত উত্তর পালি ভাষায় রচিত 'মিলিন্দ পহ্ন' গ্রন্থে লিপিবদ্ধ আছে। গ্রিকরা সর্বপ্রথম ভারতে স্বর্ণ মুদ্রার প্রচলন করে ।

শক : যাযাবর শক জাতির আদি বাসস্থান ছিল মধ্য এশিয়ার শিরদরিয়া অঞ্চল । যাযাবর ইউচি জাতি কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে তারা ব্যাকট্রিয়া দখল করে । পরে তারা ভারতে প্রবেশ করে । ভারতে শক রাজাদের মধ্যে প্রথম পরাক্রমশালী রাজা ছিলেন মোয়েস বা মোগ । ভারতে রাজত্ব কারী শক রাজারা অন্তত পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ছিল । এদের মধ্যে মালব, কাথিয়াবার ও মহারাষ্ট্রের একাংশে ক্ষহরত বংশীয় সকরা রাজত্ব করত । এদের রাজধানী ছিল নাসিক । নহপান ছিলেন এই বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা । শকদের অপর একটি শাখা কার্দমক এর রাজধানী ছিল উজ্জয়িনীতে । রুদ্র দামন ছিলেন এই বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি । জুনাগর শিলালিপি তে তাঁর কীর্তি কাহিনী বিবৃত আছে । রুদ্রদামন মহাক্ষত্রপ উপাধি ধারণ করেছিলেন । খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকে গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত ভারতে শক শক্তির অবসান ঘটান ।

পহ্লব বা পার্থিয়ান : পহ্লব বা প্রার্থীয়দের বাসভূমি ছিল কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চল (বর্তমান ইরান) । পহ্লব রাজাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ছিলেন গন্ডোফার্নিস । কথিত আছে যিশুখ্রিস্টের শিষ্য সেন্ট টমাস তার আমলে ভারতে প্রথম খ্রিস্টধর্ম প্রচার করেন এবং গন্ডোফার্নিস খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন ।

কুষাণ সাম্রাজ্য : কুশানরা ছিল ইউচি নামে এক যাযাবর জাতির শাখা । বিম কদ ফিসিস বা দ্বিতীয় কদ ফিসিস ভারতে কুষাণ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন । তিনি শিবের উপাসক ছিলেন, তার উপাধি ছিল মহেশ্বর । বিম কদ ফিসিস এরপর 78 খ্রিস্টাব্দে কনিষ্ক কুষাণ সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন এবং শকাব্দের প্রচলন করেন । তিনি কুষাণ বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন । কনিষ্কের দুটো রাজধানী ছিল, প্রথমটি ছিল পুরুষপুর বা পেশোয়ার এবং দ্বিতীয় টি মথুরা । কুষাণ যুগে যে শিল্পরীতির প্রসার হয় সেটি হলো গান্ধার শিল্প, এই শিল্পরীতি গ্রিক, রোমান ও ভারতীয় শিল্পের সংমিশ্রনে তৈরি হয়েছিল । কনিষ্কের মস্তকবিহীন মূর্তি টি মথুরা শিল্পরীতির নিদর্শন । অশ্বঘোষ ( বুদ্ধচরিত ও সূত্রালঙ্কার এর রচয়িতা ), নাগার্জুন ( 'মাধ্যমিক সূত্র' এর রচয়িতা ), আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিদ চরক , বসুমিত্র, সুশ্রুত, ব্যাকরণবিদ পতঞ্জলি কনিষ্কের রাজসভা অলংকৃত করতেন ।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.