ভারতের ভূপ্রকৃতি || Physiography of India


•হিমালয় পামির গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
•হিমালয় যেখানে অবস্থিত আগে সেখানে টেথিস সাগর ছিল।
•টার্শিয়ারি যুগে হিমালয়ের উৎপত্তি হয়।
•পশ্চিমে জম্মু-কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারোয়া পর্যন্ত হিমালয়ের দৈর্ঘ্য 2500 কিলোমিটার।
•হিমালয় পর্বত পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম মাউন্ট এভারেস্ট এর উচ্চতা 8848 মিটার।
•হিমালয় পর্বত হল একটি নবীন ভঙ্গিল পর্বত।
•ভারতের মধ্যে হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল নাঙ্গা পর্বত। এর উচ্চতা 8126 মিটার।
•হিমালয়ের সর্বদক্ষিণের পর্বত শ্রেণীর নাম শিবালিক।
•কারাকোরাম পর্বত এর গডউইন অস্টিন বা k2 শৃঙ্গ টি ভারতের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ, উচ্চতা 8611 মিটার।
•আরাবল্লী পর্বতটি হল পৃথিবী তথা ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত। দিল্লি থেকে আমেদাবাদ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় 800 কিলোমিটার।
•আবু পাহাড়ের কাছে অবস্থিত গুরুশিখর হলো আরাবল্লীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।
•শিবালিক হিমালয় এবং হিমাচল হিমালয়ের মধ্যবর্তী অংশে অনেক সমন্তরাল ও প্রশস্ত উপত্যকা দেখা যায় এদের দুন বলে। যেমন : দেরাদুন।
•জম্মু-কাশ্মীরের পির পঞ্জাল ও বানিহাল গিরিপথ শ্রীনগর ও জম্মু মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেছে।
•বুর্জিলা ও জোজিলা গিরিপথ শ্রীনগর ও লের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেছে।
•সাসার গিরিপথ লে ও চীনের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে।
•খারদুংলা গিরিপথ সিন্ধু উপত্যকার সঙ্গে নুব্রা উপত্যকার সংযোগ স্থাপন করেছে।
•উত্তর প্রদেশের নিতিপাস, লিপুপাস ও মানাপাস উত্তর প্রদেশ ও তিব্বতের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেছে।
•হিমাচল প্রদেশের সিপকিলা, বরলাচা ও রোটাং পাস কুলু উপত্যকা ও লাহুল উপত্যকা মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেছে।
•সিকিমের জেলেপলা ও নাথুলা পাস সিকিম ও তিব্বতের চুম্বি উপত্যকার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।
•অরুণাচল প্রদেশের তুলংলা, ডোমলা, ঠগলা, কায়লা প্রভৃতি গিরিপথ এর মাধ্যমে তিব্বতে যাওয়া যায় এবং বুমলা ও বোমডিলা প্রভৃতি গিরিপথ এর মাধ্যমে ভুটানে যাওয়া যায়।
•সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণী নেপাল ও দার্জিলিং সীমান্তে অবস্থিত এবং এটি পশ্চিমবঙ্গ কে নেপাল থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
•সিঙ্গালিলা পর্বত এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল সান্দাকফু।
•কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ টি হলো পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ। এর উচ্চতা 8598 মিটার।
•কারাকোরাম পর্বতের সিয়াচেন হিমবাহটি হলো ভারতের দীর্ঘতম হিমবাহ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় 76 কিলোমিটার।
•কারাকোরাম পর্বত এর রিমো হিমবাহ থেকে সিন্ধুর উপনদী সিয়োক উৎপন্ন হয়েছে।
•লাদাখ মালভূমি হল ভারতের সর্বোচ্চ মালভূমি।
•নাগা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল সারামতী।
•কোহিমা পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল জাপভো।
•গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল নকরেক।
•হিমালয়ের পাদদেশ বরাবর গাঙ্গেয় সমভূমির উত্তর সীমান্তবর্তী অঞ্চল কে ভাবর অঞ্চল বলে। বালি ও পাথরের নুড়ি এই অঞ্চলের মৃত্তিকার প্রধান উপাদান।
•ভাবর অঞ্চলের দক্ষিণ প্রান্তে ভূগর্ভস্থ নদী গুলো যেখানে আত্মপ্রকাশ করেছে সেখানকার 15 থেকে 30 কিলোমিটার প্রশস্ত জলাভূমিকে তারাই বলা হয়।
•সমভূমির নদী অববাহিকা গুলোর নদী তীরবর্তী যেসব অঞ্চল নবীন পলিমাটি দিয়ে গঠিত তাদের খাদার ও বেট অঞ্চল বলে। মধ্য ও নিম্ন গাঙ্গেয় সমভূমি প্রধানত এই মৃত্তিকায় গঠিত।
•সমভূমির নদী অববাহিকার নদীর দূরবর্তী প্রাচীন পলিমাটি দিয়ে গঠিত অঞ্চল কে ভাঙ্গর বলে। উচ্চ গাঙ্গেয় সমভূমি প্রধানত এই মৃত্তিকায় গঠিত।
•ভাঙ্গর এর তুলনায় খাদার বেশি উর্বর।
•সমভূমি অঞ্চলের পশ্চিম দিকে মাঝে মাঝে দৃশ্যমান ছোট ছোট বালিয়াড়ি গুলিকে ভুর বলে।
•কাশ্মীরের উত্তর পূর্ব প্রান্তের নাম সোডা সমভূমি।
•তিস্তা নদীর ডান তীরের সমভূমিকে তরাই এবং বাম তীরের সমভূমি কে ডুয়ার্স বলে।
•বক্ষ্মপুত্র নদীর গতিপথে সৃষ্ট মাজুলী দ্বীপ টি বিশ্বের বৃহত্তম নদী গঠিত দ্বীপ।
•মরু অঞ্চলের নিচু অংশে এবং জয়সালমীর শহরের উত্তরে উঁচু পাড়ওয়ালা বেশ কয়েকটি লবণাক্ত জলের হ্রদ দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে এদের রান বলে।
•আরাবল্লী পর্বতের একটি খাঁজের মধ্যে অবস্থিত সম্বর মরু অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হ্রদ।
•মরু অঞ্চলের চলমান বালিয়াড়ি কে ধ্রিয়ান বলে। স্থানীয় ভাষায় এদের টিব্বা বলা হয়।
•মরু অঞ্চলে দুটি সমান্তরাল বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী দীর্ঘাকার শুকনো হ্রদকে স্থানীয় ভাষায় ধান্দ বলে।
•রাজস্থানের প্রস্তরময় মরুভূমির নাম হামাদা।
•দামোদর উপত্যকার দক্ষিনে অবস্থিত রাঁচি মালভূমির পশ্চিম অংশকে প্যাট বলা হয়।
•ছোটনাগপুর মালভূমির উচ্চতম পাহাড় হল পরেশনাথ, এর উচ্চতা 1366 মিটার।
•ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল টি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বলে একে "ভারতের খনিজ ভান্ডার" বলা হয়।
•পশ্চিমঘাট পর্বতমালা টি 1600 কিলোমিটার দীর্ঘ । এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল কলসুবাই, উচ্চতা 1646 মিটার।
•পশ্চিমঘাট পর্বতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গিরিপথ হল নাশিক এর কাছে অবস্থিত থলঘাট ও পুনের কাছে অবস্থিত ভোরঘাট।
•পূর্বঘাট পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল মহেন্দ্রগীরি। এর উচ্চতা 1501 মিটার।
•সাতপুরা পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ধূপগড়, মহাদেব পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল পাঁচমারি এবং মহাকাল পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল অমরকন্টক।
•নীলগিরি পর্বতের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হল ডোডাবেট্টা। এর উচ্চতা 2637 মিটার।
•নীলগিরি পর্বতের পালঘাট গিরিপথ দিয়ে কেরালা থেকে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে যাতায়াত করা যায়।
•আনাইমালাই পর্বত এর আনাইমুদি হলো দাক্ষিণাত্য মালভূমির সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। এর উচ্চতা 2695 মিটার। মালাই শব্দের অর্থ হলো পাহাড়।
•কানারি ভাষায় মালনাদ শব্দের অর্থ পাহাড়ি দেশ। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পূর্ব পাশে অবস্থিত এবং উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে বিস্তৃত 320 কিলোমিটার লম্বা এবং 35 কিলোমিটার চওড়া পাহাড়ি অঞ্চল কে মালনাদ বলে। এই অঞ্চল প্রধানত গ্রানাইট ও নাইস পাথরে গঠিত। এখানকার মাটির রং সাধারণত লাল।
•ভারতের পূর্ব উপকূল প্রায় 1500 কিলোমিটার দীর্ঘ। পূর্ব উপকূলকে প্রধানত দু'ভাগে ভাগ করা যায় উত্তর সরকার উপকূল এবং করমন্ডল উপকূল।
•তামিলনাড়ু উপকূলের থাঞ্জাভুর জেলায় বছরে দুবার বৃষ্টিপাত হয়, বর্ষাকালে এবং শীতকালের শুরুতে। বৃষ্টিপাত এবং উর্বর মৃত্তিকার জন্য এই অঞ্চলে প্রচুর ফসল জন্মায়। এই জন্য এই অঞ্চলকে "দক্ষিণ ভারতের শস্য ভান্ডার" বলা হয়।
•করমন্ডল উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী তামিলনাড়ু থেকে শ্রীলঙ্কাকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
•ভারতের পশ্চিম উপকূল উত্তরে নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত ব্রোচ বন্দর থেকে দক্ষিনে কন্যা কুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত প্রায় 1600 কিলোমিটার দীর্ঘ।
•রণ শব্দের অর্থ কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত নিম্নভূমি। গুজরাট রাজ্যের উত্তরে এবং কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর-পূর্বাংশে অগভীর জলাভূমি কে বলা হয় রণ।  উত্তরের অংশ বৃহৎ রণ এবং পূর্বের অংশ ক্ষুদ্র রণ নামে পরিচিত।
•কচ্ছ শব্দের অর্থ জলময় দেশ।
•ভারতের শ্রেষ্ঠ বন্দর মুম্বাই কঙ্কণ উপকূলে অবস্থিত।
•মালাবার উপকূলের উপহ্রদ গুলোকে কেরালায় কয়াল বলে। যেমন:- ভেম্বানাদ কয়াল, এর দৈর্ঘ্য প্রায় 80 কিলোমিটার।
•কেরালা উপকূলের জলাভূমিকে ব্যাক ওয়াটার্স বলা হয়।
•আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপের সংখ্যা 204 টি। কলকাতা থেকে আন্দামান এর দূরত্ব প্রায় 1255 কিলোমিটার এবং তামিলনাড়ু উপকূল থেকে দুরত্ব প্রায় 1191 কিলোমিটার।
•আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দূরত্ব প্রায় 120 কিলোমিটার। নিকোবর এর দ্বীপ এর সংখ্যা 19 টি।
•আন্দামানের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম স্যাডল পিক।
•কেরালা উপকূল থেকে লাক্ষা দ্বীপের দূরত্ব প্রায় 324 কিলোমিটার। এই দ্বীপপুঞ্জের দ্বীপের সংখ্যা 25 টি।
•লাক্ষা, আমিনদিভি ও মিনিকয় দ্বীপপুঞ্জের মোট আয়তন 32 বর্গ কিলোমিটার।
•মিনিকয় দ্বীপ টি হল এই দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ।
•চিল্কা হ্রদ উৎকল উপকূলে অবস্থিত।
•পুলিকট উপহ্রদ করমন্ডল উপকূলে অবস্থিত।
•ভেম্বানাদ কয়াল মালাবার উপকূলে অবস্থিত।
•কোলেরু হ্রদ অন্ধ্র উপকূলে অবস্থিত।
•সিন্ধুদুর্গ দ্বীপ কোঙ্কন উপকূলে অবস্থিত।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.