বিপ্লবী আন্দোলন || Revolutionary Activities


বাংলাদেশ :
অনুশীলন সমিতি : 1902 খ্রিস্টাব্দে 24 শে মার্চ কলকাতার 12 নম্বর মদন মিত্র লেনে সতীশচন্দ্র বসু অনুশীলন সমিতি গঠন করেন। ব্যারিস্টার প্রমথনাথ মিত্র অনুশীলন সমিতির সভাপতি, চিত্তরঞ্জন দাস সহ-সভাপতি এবং অরবিন্দ ঘোষ কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

যুগান্তর দল : নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ এবং সশস্ত্র আন্দোলন এই দুই পদ্ধতিতে অনুশীলন সমিতি আন্দোলন করতো। বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ছিলেন সশস্ত্র আন্দোলন ও গুপ্তহত্যার পক্ষপাতী। এজন্য 1906 খ্রিস্টাব্দে বারীন্দ্রকুমার ঘোষ ‘যুগান্তর’ দল গঠন করেন। অরবিন্দ-বারিন্দ্রের পৈতৃক বাগানবাড়িতে যুগান্তর দলের বৈপ্লবিক কর্ম কেন্দ্র স্থাপিত হয়। যুগান্তর দল এর সাপ্তাহিক মুখপাত্র ‘যুগান্তর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত।

মজঃফরপুর হত্যাকাণ্ড : 1907 খ্রিস্টাব্দে বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কলকাতার মানিকতলা অঞ্চলের 32 নম্বর মুরারিপুকুর রোডের এক বাগান বাড়িতে একটি বোমা তৈরীর কারখানা স্থাপন করেন। হেমচন্দ্র কানুনগো ও উল্লাস কর দত্ত বোমা তৈরীর দায়িত্ব নেন। প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা প্রেসিডেন্সির ম্যাজিস্ট্রেট অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে হত্যা করা। 1908 খ্রিস্টাব্দের 30 এপ্রিল বিহারের মজঃফরপুরে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী  রাতের অন্ধকারে কিংসফোর্ডের গাড়ি ভেবে ভুল করে নিরপরাধ কেনেডি সাহেবের নিরীহ স্ত্রী ও কন্যার ঘোড়ার গাড়িতে একটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। প্রফুল্ল চাকী ধরা পড়ার ভয়ে আত্মহত্যা করে। 1908 খ্রিস্টাব্দে 11 ই আগস্ট ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়।

আলিপুর বোমা মামলা : মজঃফরপুর হত্যাকাণ্ডের সূত্র ধরে 1908 খ্রিস্টাব্দে পুলিশ মুরারিপুকুর বাগান বাড়িতে তল্লাশি চালায় এবং অরবিন্দ-বারীন্দ্র সহ মোট 47 জনকে গ্রেপ্তার করে বিখ্যাত ‘আলিপুর বোমা মামলা' শুরু করে। আসামিদের পক্ষে উকিল ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। দুর্বল চিত্ত বিপ্লবী নরেন গোঁসাই পুলিশের কাছে গোপন তথ্য ফাঁস করে দিলে কানাইলাল দত্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসু গোপনে জেলের মধ্যে পিস্তল আনিয়ে নরেন গোঁসাই কে হত্যা করে। বিচারে তাদের ফাঁসি হয়। অরবিন্দ ঘোষ মুক্তি পান। 1909 খ্রিস্টাব্দে অনুশীলন ও যুগান্তর দল নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়।

হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপ : দিল্লিতে ভারতের রাজধানী স্থানান্তরের সময় 1912 খ্রিস্টাব্দের 23 শে ডিসেম্বর বড়লাট হার্ডিঞ্জ বিশাল শোভাযাত্রা করে যখন রাজধানী দিল্লিতে প্রবেশ করছিলেন তখন রাশবিহারী বসুর পরিকল্পনা মাফিক বসন্ত বিশ্বাস নামে জনৈক বিপ্লবী তার ওপর বোমা নিক্ষেপ করে। গুরুতর আহত হলেও বড়লাট প্রাণে বেঁচে যান।

দিল্লি ষড়যন্ত্র মামলা : 1913 খ্রিস্টাব্দের 17 ই মে পাঞ্জাবের সহকারী পুলিশ কমিশনার গর্ডনকে হত্যার জন্য রাসবিহারীর নির্দেশে লাহোরের লরেন্স গার্ডেনে বোমা রাখা হয়। বোমার আঘাতে এক সরকারি চাপরাশির মৃত্যু হয়। 1914 খ্রিস্টাব্দের 16 মার্চ আমিরচাঁদ, অবোধবিহারী, বালমুকুন্দ ও বসন্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়। 1915 খ্রিস্টাব্দে 11 মে বিচারে তাদের ফাঁসি হয়।

লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা : অনুশীলন সমিতি, রাসবিহারীর গোষ্ঠী, বারানসির শচীন্দ্রনাথ সান্যাল এর দল ও চন্দননগর এর প্রবর্তক সংঘ এর সমবেত পরিকল্পনায় 1915 খ্রিস্টাব্দে 21 শে ফেব্রুয়ারি দেশজোড়া অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়। বিপ্লবের মূল কর্মকেন্দ্র ছিল লাহোর। যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বাংলা, নলিনী মুখোপাধ্যায় জব্বলপুর ও শচীন্দ্রনাথ সান্যাল বারানসির দায়িত্ব পান। স্থির ছিল যে বিপ্লবীরা একযোগে ইংরেজ সেনাদের আক্রমণ করে হত্যা ও বন্দী করবে, সরকারি কোষাগার লুণ্ঠন করবে, জেল ভেঙে বন্দীদের মুক্ত করে দেবে, রেল ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত করবে এবং স্থানীয় প্রশাসন দখল করবে। কৃপাল সিংয়ের বিশ্বাসঘাতকতায় এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। মিরাটের সেনাছাউনিতে প্রচার কালে পিংলে দশটি বোমাসহ ধরা পড়ে। কর্তার সিং অন্যত্র ধরা পড়েন। বন্দী বিপ্লবীদের নিয়ে ‘প্রথম লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা' শুরু হয়। মামলার এক নম্বর আসামি রাসবিহারী বসু 1915 খ্রিস্টাব্দে 12 ই মে ‘পি এন ঠাকুর' ছদ্মনামে খিদিরপুর থেকে এস এস সারুকিমারু জাহাজে চেপে জাপানে পালিয়ে যান। 1915 খ্রিস্টাব্দের 29 শে অক্টোবর ‘দ্বিতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা' এবং 1916 খ্রিস্টাব্দের 8 নভেম্বর ‘তৃতীয় লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা' শুরু হয়।

বারানসি ষড়যন্ত্র মামলা : রাজবিহারী বসু বিপ্লব প্রচেষ্টা সূত্র ধরে 1915 খ্রিস্টাব্দের 16 ই ফেব্রুয়ারি শচীন্দ্রনাথ সান্যাল, গিরিজা দত্ত, নলিনী মুখোপাধ্যায়, কাপলে প্রমূখ 24 জন বিপ্লবের বিরুদ্ধে বারানসি ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয় বিচারে শচীন্দ্রনাথ সান্যালের যাবজ্জীবন সাজা হয়।

• বিপ্লববাদ দমনের উদ্দেশ্যে সরকার 1915 খ্রিস্টাব্দের 5 ই মার্চ ‘4নং ডিফেন্স অফ ইন্ডিয়া ক্রিমিনাল ল আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট' এবং 1915 খ্রিস্টাব্দের আঠারোই মার্চ ‘ভারত রক্ষা আইন' (defence of Indian Act) পাস করে নির্বিচারে গ্রেফতার ও অকথ্য নির্যাতন চালায়।

বাঘাযতীন : ‘আত্মোন্নতি সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা বিপিনবিহারী গাঙ্গুলীর প্রেরণায় এবং যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে 1914 খ্রিস্টাব্দে 26 আগস্ট কলকাতার ধর্মতলা এন্ড কোম্পানীর দোকান থেকে বিপ্লবীরা 50 টি মাউজার পিস্তল এবং 46000 কার্তুজ লুট করে। বাঘাযতীন উড়িষ্যার বালেশ্বর এ চলে এসে ‘ইউনিভার্সাল এম্পোরিয়াম' গঠন করে আত্মগোপন করেন। তার নির্দেশে নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (এম এন রায়) জার্মান ন্যাশনাল পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভারতে অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোর জন্য। সাংহাইয়ের জার্মান কনসাল ম্যাভেরিক, অ্যানি লার্সেন ও হেনরি-এস নামে তিনটি অস্ত্র বোঝাই জাহাজ সুন্দরবনের রায়মঙ্গল ও বাগেশ্বর অঞ্চলের উদ্দেশ্যে পাঠান। ইংরেজি, ডাচ ও আমেরিকান কর্তৃপক্ষের হাতে জাহাজ তিনটি ধরা পড়ে। পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট বিশাল বাহিনী নিয়ে বুড়িবালামের তীরে অপেক্ষারত বাঘাযতীনের বাহিনীকে ঘিরে ফেলে। 1915 খ্রিস্টাব্দে 9 সেপ্টম্বর ‘বুড়িবালামের যুদ্ধে' বাঘাযতীন গুরুতর আহত হন এবং 10 সেপ্টম্বর বালেশ্বর হাসপাতালে মারা যান।

মহারাষ্ট্র :
বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কে : মহারাষ্ট্রে বাসুদেব বলবন্ত ফাড়কে নেতৃত্বে প্রথম গুপ্ত সমিতি গড়ে ওঠে। 1845 খ্রিস্টাব্দে মহারাষ্ট্রের কোবালা জেলার এক চিত পাবন ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম হয়। তিনি রামোশি,শিোল, ভীল, ভাঙ্গড় প্রভৃতি অনুন্নত উপজাতির সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে এক সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন। সরকারি কোষাগার লুণ্ঠন ও ধনীদের গৃহে ডাকাতির মাধ্যমে তিনি বিপ্লবের ব্যয় নির্বাহ করতেন। 1879 খ্রিস্টাব্দে তিনি বন্দী হন এবং 1883 খ্রিস্টাব্দে যক্ষায় তার মৃত্যু হয়। ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার তাকে ‘ভারতের বৈপ্লবিক জাতীয়তাবাদের জনক' (father of militant Nationalism in India) বলে আখ্যায়িত করেছেন।

গনপতি ও শিবাজী উৎসব : মারাঠাদের মধ্যে আত্মত্যাগ স্বদেশ প্রীতি ও শিবাজীর আদর্শ তুলে ধরতে বাল গঙ্গাধর তিলক 1894 খ্রিস্টাব্দে ‘সর্বজনীন গণপতি উৎসব' এবং 1895 খ্রিস্টাব্দে ‘শিবাজী উৎসব' পালন করেছিলেন।

চাপেকর ভাতৃদ্বয় : 1895 খ্রিস্টাব্দে দামোদর হরি চাপেকর ও বালকৃষ্ণ হরি চাপেকর নামে দুই ভাই এর উদ্যোগে পুনা শহরে ‘হিন্দু ধর্মের অন্তরায় বিনাশী সংঘ' নামে এক গুপ্ত সমিতি স্থাপিত হয়। 1897 খ্রিস্টাব্দে পুনা প্লেগকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের উপর অত্যাচার শুরু হলে প্লেগ কমিশনার মিঃ রেন্ড ও তার সহকারী মিঃ আয়ার্স্ট কে তারা হত্যা করেন। বিচারে তাদের ফাঁসি হয়।

বিনায়ক দামোদর সাভারকর : 1899 খ্রিস্টাব্দে বিনায়ক দামোদর সাভারকর 'মিত্র মেলা’ নামে একটি গোপন বিপ্লবী সমিতি গঠন করেন। 1904 খ্রিস্টাব্দে তার দাদা গণেশ সাভারকর নাসিকে ‘অভিনব ভারত' নামে একটি গুপ্ত সমিতি গঠন করেন। তখন থেকেই ‘মিত্র মেলা' ‘অভিনব ভারত' নামে পরিচিত হয়। 1906 খ্রিস্টাব্দে সাভারকর লন্ডনে যান এবং সেখান থেকে তিনি বোম্বাইয়ের বিপ্লবীদের কাছে অস্ত্র ও বোমা তৈরীর নিয়মাবলী পাঠাতেন। তার প্রেরণায় 1909 খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের এক পার্কে মদনলাল ধিংরা স্যার কার্জন ওয়াইলি কে হত্যা করে ফাঁসির কাঠে মৃত্যুবরণ করে।

নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা : বিনায়ক দামোদর সাভারকরের প্রেরিত অস্ত্রের সাহায্যে 1909 খ্রিস্টাব্দে অনন্ত লক্ষণ কানহেরি নাসিকের জেলাশাসক জ্যাকসন কে হত্যা করেন । এই ঘটনার পর 1910 খ্রিস্টাব্দে 'নাসিক ষড়যন্ত্র মামলা' শুরু হয় । বিচারে অনন্ত লক্ষণ কান হেরে, কৃষ্ণগোপাল কার্ভে ও নারায়ন দেশপান্ডের ফাঁসি হয়। সাভারকরকে 26 বছরের জন্য আন্দামান সেলুলার জেলে পাঠানো হয়।

পাঞ্জাব :
সাহারানপুরের গুপ্ত সমিতি : 1904 খ্রিস্টাব্দে প্রবাসী বাঙালি জে এম চট্টোপাধ্যায় পাঞ্জাবের সাহারানপুরে প্রথম বিপ্লবী কেন্দ্র গড়ে তোলেন। পরে এই সমিতির কর্মকেন্দ্র রুরকিতে স্থানান্তরিত হয়। অধ্যাপক লালা হরদয়াল, অজিত সিংহ (ভগৎ সিং-এর কাকা), সুফি অম্বাপ্রসাদ এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অজিত সিংহ সম্পাদিত ‘ভারতমাতা’ ও অম্বাপ্রসাদের ‘ঝঙ্গের-শিয়াল’ পত্রিকা দুটি সশস্ত্র আন্দোলনের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

ভারতের বাইরে বৈপ্লবিক আন্দোলন :
গদর দল : 1913 খ্রিস্টাব্দে লালা হরদয়াল, পন্ডিত কাশীরাম এবং সোহন সিং ভাকনার সহযোগিতায় আমেরিকার সানফ্রান্সিস্কো শহরে গদর পার্টির পত্তন হয়। সোহন সিং ভাকনা, মহম্মদ বরকতুল্লা ও লালা হরদয়াল যথাক্রমে এই দলের প্রথম সভাপতি, সহসভাপতি ও সম্পাদক ছিলেন। 1913 খ্রিস্টাব্দের 1 লা নভেম্বর এই দলের মুখপাত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘গদর’ এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ‘গদর’ কথার অর্থ বিদ্রোহ। আমেরিকা ও কানাডা ব্যতীত মেক্সিকো, জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্দোচীন এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই দলের বহু সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই দলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত ভারতীয় সেনাদের স্বাধীনতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করা, ব্রিটিশের অনুগত রাজকর্মচারীদের হত্যা করা এবং ব্রিটিশের শত্রু জাতিসমূহের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা।

বার্লিন কমিটি : 1914 খ্রিস্টাব্দের 3 রা সেপ্টেম্বর সরোজিনী নাইডুর ভাই বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ‘ভারতীয় বিপ্লবী কমিটি' গঠন করেন। এটি বিখ্যাত ‘বার্লিন কমিটি' নামে পরিচিত। শুরুতে এটি ‘ইন্দো-জার্মান সোসাইটি' নামে পরিচিত ছিল। এর অন্যান্য সদস্যরা হলেন রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বীরেন্দ্রনাথ সরকার, মৌলানা বরকতুল্লাহ, ভগবান সিংহ প্রমুখ।  ভারতীয়দের বিস্ফোরক দ্রব্য নির্মাণ শিক্ষা দেওয়া ও ভারতে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা এই কমিটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

ইন্ডিয়ান হোমরুল সোসাইটি : 1905 খ্রিস্টাব্দে গুজরাটি ব্রাহ্মণ শ্যামজি কৃষ্ণবর্মা লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয় ছাত্র দের জন্য ‘ইন্ডিয়া হাউস’ নামে একটি গেস্ট হাউস তৈরি করেন এবং সেখানে ‘ইন্ডিয়ান হোমরুল সোসাইটি' গঠন করেন। তিনি লন্ডনে ‘ইন্ডিয়ান সোসিয়লজিস্ট' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটি : শ্রীমতি ভিকাজি রুস্তমজি কামা বোম্বের এক ধনী ঘরের পারসি মহিলা ছিলেন। তাকে ‘ভারতীয় বিপ্লববাদের জননী' বলা হয়। তিনি 1906 খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে ‘ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটি' নামে একটি বিপ্লবী সমিতি গঠন করেন।

ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ : বাঙালি বিপ্লবী তারকনাথ দাস আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া শহরে ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লীগ' গঠন করেন। তিনি কলম্বিয়া থেকে ‘ফ্রি হিন্দুস্তান' পত্রিকার সম্পাদনা করে বিশ্বব্যাপী ব্রিটিশ বিরোধী জনমত গঠনে ভূমিকা পালন করেন।

রেশমি রুমাল ষড়যন্ত্র মামলা : ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের উত্তর সীমান্তের পারে ‘মুহাজির’ বা মুক্তিকামী মানুষ শাসিত একটি স্বাধীন অঞ্চল ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মুহাজিরদের মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী তৎপরতা শুরু হয়। উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দ বিদ্যায়তনের প্রধান মৌলবী মৌলানা মাহমুদ হাসান এফেন্দি ও অন্যতম শিক্ষক ওবেদুল্লা সিন্ধি 15 জন জাতীয়তাবাদী ছাত্র সহ মুহাজিরদের স্বাধীন রাজ্যে চলে যান এবং আরব রাজ্যগুলির সাহায্য নিয়ে ভারতকে স্বাধীন করার চিন্তা করেন। মৌলানা মাহমুদ হাসান যখন মক্কায় প্রচারকার্যে রত, ওবেদুল্লা একটি সিল্কের কাপড়ের ওপর লিখে একটি গোপন পত্র তার কাছে পাঠান। এটি ব্রিটিশ পুলিশের হস্তগত হয় এবং 1916 খ্রিস্টাব্দে ‘সিল্ক লেটার কন্সপিরেসি' বা ‘রেশমী রুমাল ষড়যন্ত্র মামলা' শুরু হয়।

কোমাগাতামারু ও তোসামারুর ঘটনা : ভারতীয়রা যাতে কানাডায় প্রবেশ করতে না পারে এই উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকারের প্ররোচনায় কানাডা সরকার একটি নতুন আইন পাস করে। এই সময় মালয় ও সিঙ্গাপুরের ধনী ব্যবসায়ী বাবা গুরুদিৎ সিং কোমাগাতামারু নামে একটি জাপানি জাহাজ ভাড়া করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বসবাসকারী 372 জন পাঞ্জাবি কে নিয়ে কানাডার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। 1914 খ্রিস্টাব্দের 23 শেষ মে জাহাজটি কানাডার ভ্যানকুভার বন্দরে পৌঁছলে, কানাডা সরকার যাত্রীদের সেখানে অবতরণে বাধা দেয়। দুমাস সেখানে অবস্থানের পর, 1914 খ্রিস্টাব্দের 29 শে সেপ্টেম্বর জাহাজটি কলকাতায় ফিরে এলে, ইংরেজ সরকার একটি ট্রেনে করে তাদের পাঞ্জাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। যাত্রীরা বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ইংরেজ বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। কুড়ি জনের মৃত্যু ঘটে, 200 জন কে বন্দি করে পাঞ্জাবে পাঠানো হয়। 1914 খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে আমেরিকা, সাংহাই ও হংকংয়ে বসবাসকারী 173 জন শিখ যাত্রীকে নিয়ে ‘তোসামারু' নামে একটি জাপানি জাহাজ আমেরিকা থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছলে যাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে বন্দি করে পাঞ্জাবে পাঠিয়ে দেওয়া।
Cannon

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.