বৈদিক সাহিত্য || Vedic Literature


•‘বিদ' শব্দ থেকে বেদ কথার উৎপত্তি। ‘বিদ' কথার অর্থ হল জ্ঞান। দীর্ঘদিন ধরে শুনে শুনে মনে রাখতে হতো বলে বেদের অপর নাম শ্রুতি।
•বেদ চার প্রকার – ঋক, সাম, যজু এবং অথর্ব। ঋক, সাম ও যজু কে একত্রে ত্রয়ী বলে।
• প্রতিটি বেদের সাথে চারটি বিভাগ আছে – সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ।
•ঋক বেদ হল পৃথিবীর প্রাচীনতম সাহিত্য।
•ঋকবেদে স্তোত্র আছে 1028 (1017+11) এবং এগুলি দশটি মন্ডলে বিভক্ত।
•ঋকবেদের দশম মন্ডলের পুরুষ সূত্রে বলা আছে ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ, বাহু থেকে ক্ষত্রিয়, উরু থেকে বৈশ্য এবং পা থেকে শূদ্রের উৎপত্তি।
•ঋকবেদের তৃতীয় মন্ডলে আছে গায়ত্রী মন্ত্র বা সূর্য বন্দনা ।
•ঋকবেদে ‘ওঁ' শব্দ 1028 বার এবং জন শব্দ 275 বার ব্যবহৃত হয়েছে।
•ঋকবেদে 250 টি স্তোত্র ইন্দ্রকে এবং 200 টি স্তোত্র অগ্নি কে উৎসর্গ করা হয়েছে।
•সাম বেদে ঋকবেদের স্তোত্র কে ছন্দাকারে লেখা হয়েছে। যজ্ঞের সময় সামবেদের ছন্দ গুলিকে গানের মতো আবৃত্ত করা হতো। এই বেদে 1603 টি শ্লোক আছে, যার মধ্যে 99 টি বাদে সবগুলি ঋকবেদের।
•যজুর্বেদ আংশিক গদ্যে এবং আংশিক পদ্যে রচিত। এর দুটি অংশ শুক্লা যজুর্বেদ এবং কৃষ্ণ যজুর্বেদ।
•অথর্ববেদ কুড়িটি কাণ্ডে বিভক্ত এবং এতে 711 টি স্তোত্র আছে। বেদের এই খন্ডে চিকিৎসাবিদ্যা, যাদুবিদ্যা, মারণ-উচাটন-বশীকরণ প্রভৃতি নানা বিষয়ে আলোচনা আছে।
•সংহিতা গদ্যে রচিত, স্তোত্র এবং স্তবক গুলি এই অংশে পাওয়া যায়।
•ব্রাহ্মণ গদ্যে রচিত যাগ-যজ্ঞের প্রথা এখানে বর্ণিত আছে।
•আরণ্যক অংশে তপস্যা, ধ্যান, উপাসনা ও নানা চিন্তাধারার প্রাধান্য।
•বেদের শেষ ভাগ বেদান্ত বা উপনিষদ গদ্যে লিখিত। এ পর্যন্ত প্রায় 108 টি উপনিষদ পাওয়া গেছে। উপনিষদে দার্শনিক চিন্তার প্রাধান্য।
•বেদ কে কেন্দ্র করে যে ধর্ম গ্রন্থ গুলি রচিত, তা হল সূত্র বা ধর্মসূত্র। এই সূত্র সাহিত্য ছটি বেদাঙ্গ বা ষড়সূত্র এবং ষড়দর্শন নিয়ে গঠিত।
•বেদাঙ্গের ছটি বিভাগ –
             শিক্ষা   -  বেদের শুদ্ধ উচ্চারণ
      ছন্দ  -  বেদের পদ বিন্যাস
      নিরুক্ত  -  শব্দের উৎপত্তির বিশ্লেষণ
      ব্যাকরণ  -  ভাষার ব্যবহার বিধি
      জ্যোতিষ  -  গ্রহ-নক্ষত্রাদির জ্ঞান
      কল্প  -  যাগযজ্ঞের বিধি ।
•বৈদিক সাহিত্য যাতে শুদ্ধভাবে পাঠ করা যায় এবং যাগযজ্ঞ প্রভৃতি ক্রিয়াকর্ম যাতে সঠিকভাবে পালন করা যায়, সেজন্য বেদাঙ্গ রচিত হয়েছিল।
•বৈদিক যুগে 6 জন ঋষির দ্বারা ষড়দর্শন রচিত হয়েছিল।
           সাঙ্খ – কপিল
           ন্যায় – গৌতম
           যোগ – পতঞ্জলি
           বৈশেষিক – কণাদ
           পূর্ব মীমাংসা – জৈমিনি
           উত্তর মীমাংসা – বিয়াস
•চারটি উপবেদ আছে –
           আয়ুর্বেদ – ঔষধ
           ধনুর্বেদ - যুদ্ধ কৌশল
           গন্ধর্ববেদ – সংগীত
           শিলা – স্থাপত্য ।
•পুরাণের সংখ্যা 18 টি।
•রামায়ণে শ্লোক আছে 24,000 ।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.