ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গান্ধীজী - আইন অমান্য আন্দোলন || Civil Disobedience Movement


আইন অমান্য আন্দোলন : 1930 খ্রিস্টাব্দের 30 শে জানুয়ারি গান্ধীজি ‘ইয়ং ইন্ডিয়া' পত্রিকাতে সরকারের কাছে ‘এগারো দফা দাবি' তুলে ধরেছিলেন। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য বর্জন, বন্দিমুক্তি, লবণ কর রদ, খাজনা হ্রাস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সরকার তখন গান্ধীজিকে সাবধান করে দিলে গান্ধীজি আন্দোলন ছাড়া কোন বিকল্প পথ দেখতে পাননি। 1930 খ্রিস্টাব্দের 14 থেকে 16 ফেব্রুয়ারি জাতীয় কংগ্রেসের সবরমতী আশ্রমে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং চলে। তখনই অহিংস আইন অমান্য আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ডান্ডি মার্চ : সমুদ্রের জল শুকিয়ে বা আগুনে জ্বাল দিয়ে লবণ তৈরি করা যায় অথচ এই গরিবের দেশে লবণ তৈরি দণ্ডনীয় ছিল এবং সরকার লবণের একচেটিয়া ব্যবসা করতেন। 1930 খ্রিস্টাব্দের 12 ই মার্চ 78 জন সত্যাগ্রহী কে নিয়ে গান্ধীজি 24 দিনে 241 মাইল পথ পায়ে হেঁটে গুজরাটের সবরমতী আশ্রম থেকে আরব সাগরের তীরে ডান্ডি তে উপনীত হন। এই দীর্ঘ ঐতিহাসিক পদযাত্রা ‘ডান্ডি মার্চ' নামে পরিচিত। 6 ই এপ্রিল সেখানে আরব সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করে গান্ধীজি প্রথম আইন অমান্য করেন। সমগ্র ভারতে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলো। যেখানে সমুদ্র আছে সেখানে শুরু হলো লবণ আইন ভঙ্গ। আর যেখানে সমুদ্র নেই সেখানে চলতে লাগল রাজনৈতিক নিষিদ্ধ পুস্তিকা পাঠ, মাদক বর্জন, আবগারি ও বিলেতি পণ্যাগাড়, স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালতের সামনে পিকেটিং। আন্দোলন দমনের জন্য 1930 খ্রিস্টাব্দের 1লা এপ্রিল পুনরায় ‘বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল' বিধিবদ্ধ করা হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে 27 এপ্রিল তারিখে 1910 খ্রিস্টাব্দের ‘প্রেস অর্ডিন্যান্স' পুনঃপ্রবর্তিত করা হয়। জাতীয় কংগ্রেসকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। কংগ্রেসের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা চলতে থাকে।

সীমান্ত গান্ধী : উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে গান্ধীবাদী নেতা ‘সীমান্ত গান্ধী' আব্দুল গফফর খান এর নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে। তিনি ছিলেন ‘খুদা-ই-খিদমতগার’ বা ‘ঈশ্বরের সেবক' দলের প্রতিষ্ঠাতা। এই দলের সদস্যরা সীমান্ত অঞ্চলের প্রাচীন পোশাক লাল রঙের কোর্তা পরিধান করতে বলে এই দল ‘রেড শার্ট' বা ‘লাল কোর্তা’’ নামে পরিচিত ছিল।

গান্ধী-আরউইন চুক্তি : 1930 খ্রিস্টাব্দের 27 জুন সাইমন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে 12 ই নভেম্বর সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভারতীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে লন্ডনে একটি গোলটেবিল বৈঠক ডাকেন (প্রথম গোল টেবিল বৈঠক)। কংগ্রেস এই বৈঠক বর্জন করলে বৈঠকের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়। সরকার উপলব্ধি করে কংগ্রেস ব্যতীত কোন আলোচনাই সম্ভব নয়। তাই জাতীয় কংগ্রেসের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয় এবং 1931 খ্রিষ্টাব্দের 26 শে জানুয়ারি গান্ধীসহ সকল কংগ্রেস নেতাকে মুক্তি দেওয়া হয়। 5 ই মার্চ গান্ধীজির সঙ্গে বড়লা আরউইনের ‘গান্ধী-আরউইন চুক্তি' বা ‘দিল্লি চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। এই আইনের দ্বারা সরকার সকল স্বৈরাচারী আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রত্যাহার করে, হিংসাত্মক কার্যে বন্দি ছাড়া সকল রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি কংগ্রেস নেত্রীবর্গ ফেরত পান, যেসব অঞ্চলে সহজে লবণ তৈরি হয় সেখানকার মানুষরা লবন তৈরীর অধিকার পান। 1930 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে জাতীয় কংগ্রেসের করাচি অধিবেশনে এই চুক্তি অনুমোদিত হয়। এই অধিবেশনের সভাপতি বল্লভ ভাই প্যাটেল পুনরায় ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসনকে কংগ্রেসের লক্ষ্য বলে ঘোষণা করে।

দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক : 1930 খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বরে লন্ডনে দ্বিতীয় গোল টেবিল বৈঠক বসে। কংগ্রেসের পক্ষে একমাত্র গান্ধীজি এবং ভারতীয় নারী সমাজের পক্ষে সরোজিনী নাইডু এই বৈঠকে যোগদান করেন। ভারতের কেন্দ্র ও প্রদেশ গুলিতে দায়িত্বশীল সরকার গঠন এবং অর্থ, সেনা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়ে সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা দাবি করেন। তিনি বলেন, বড়লাট সরকারের নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হবেন। সরকার গান্ধীজীর এই দাবি মানতে অসম্মত হয়। অপরদিকে সরকারি প্ররোচণায় মুসলিম লীগ, অনুন্নত শ্রেণি, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান, ভারতীয় খ্রিস্টান, ইউরোপীয় বণিক সম্প্রদায় ও অপরাপর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে নানা দাবি উত্থাপন করে। শত চেষ্টাতেও গান্ধীজি তাদের ঐক্যমতে আনতে ব্যর্থ হন। ফলে দ্বিতীয় বই গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়। 1932 খ্রিস্টাব্দের তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে কংগ্রেস আর যোগদান করেনি।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন : 1930 খ্রিস্টাব্দের 18 এপ্রিল ভারতের পূর্ব প্রান্তে চট্টগ্রামের ‘মাস্টার দা' সূর্যসেনের নেতৃত্বে তার কিছু দুঃসাহসিক অনুগামী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন করেন। টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ লাইন ধ্বংস করে চট্টগ্রামের ‘বিপ্লবী সরকার' প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করেন। পরে সামরিক বাহিনী চট্টগ্রামে প্রবেশ করলে বিপ্লবীরা নিকটস্থ জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেন। সেখানে দু’পক্ষে তুমুল লড়াই হয়। অনেক বিপ্লবী নিহত হন। সূর্যসেন ধরা পড়েন এবং 1934 খ্রিস্টাব্দে বিচারে তার ফাঁসি হয়। তার নির্দেশেই প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পাহাড়তলীর ইউরোপীয় ক্লাবে আক্রমণ চালান এবং মৃত্যুবরণ করেন।

বিনয়-বাদল-দীনেশ : 1930 খ্রিস্টাব্দের 29 শে আগস্ট ‘বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স' বা বি.ভি. এর সদস্য ও ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিকেল ছাত্র বিপ্লবী বিনয় কৃষ্ণ বসু বাংলা পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল লোম্যান ও ঢাকার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট হডসন কে লক্ষ্য করে গুলি চালান। লোম্যান নিহত হন। বিনয় বসু এই অবস্থায় কলকাতায় পালিয়ে এসে বি.ভি.- এর অন্য দুই সদস্য বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে 8 ডিসেম্বর রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেন। তাদের আক্রমণে কারা বিভাগের অধিকর্তা সিম্পসন নিহত হন। লাল বাজার থেকে আগত বিরাট সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময় হয়। এই যুদ্ধ ‘অলিন্দ যুদ্ধ' নামে খ্যাত। তিন বিপ্লবী বিষপান করে নিজেদের কপালে গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বাদল গুপ্ত সফল হন, বিনয় বসু হাসপাতালে মারা যান, দীনেশ গুপ্তের ফাঁসি হয়।

ভগৎ সিং : পাঞ্জাবের বিশিষ্ট বিপ্লবী অজিত সিং এর ভ্রাতুষ্পুত্র এবং ‘নওজোয়ান ভারত সভা' ও ‘হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাব্লিকান এসোসিয়েশন' এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তরুণ বিপ্লবী ভগৎ সিং রুশ সাম্যবাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উপলব্ধি করেন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে মূলত তারই চাপে বিপ্লবী সংগঠন ‘হিন্দুস্তান রিপাবলিকান এসোসিয়েশন' এর সঙ্গে ‘সোশালিস্ট’ কথাটি যুক্ত হয়। ভগৎ সিং 1928 খ্রিস্টাব্দের 17 ই নভেম্বর লালা লাজপত রায়ের হত্যাকারী পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট স্যান্ডার্স কে হত্যা করেন। পরের বছর যখন দিল্লির কেন্দ্রীয় আইন সভায় জনস্বার্থবিরোধী ‘ট্রেড ডিসপিউট বিল' ও ‘পাবলিক সেফটি বিল' নিয়ে আলোচনা চলছিল 1929 খ্রিস্টাব্দের 8 এপ্রিল তিনি এবং বর্ধমানের বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত সভার অভ্যন্তরে বোমা নিক্ষেপ করে স্বেচ্ছায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। শুরু হয় ঐতিহাসিক ‘লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা'। 1930 খ্রিস্টাব্দের 23 শে মার্চ বিচারে তাদের ফাঁসি হয়। ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ' বা ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক' ধ্বনির প্রবর্তক হলেন ভগৎ সিং।

যতীন দাস : দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সহ-সম্পাদক ও সুভাষচন্দ্র বসুর অতি ঘনিষ্ঠ সহকর্মী যতীন দাস ‘হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন'-এর সদস্য ছিলেন। তিনি ভগৎ সিং ও তার দলের সদস্যদের বোমা তৈরি শিক্ষক ছিলেন। ‘কাকোরি ষড়যন্ত্র মামলায়' তিনি বন্দী হন এবং অবশেষে মুক্তিও পান। স্যান্ডার্স হত্যা ও দিল্লির আইন পরিষদে বোমা নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে 1930 খ্রিস্টাব্দের 10 জুলাই যে ‘লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা' শুরু হয় তাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। এই সময় জেলে রাজনৈতিক বন্দীদের প্রতি প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করা হতো। এর প্রতিবাদে 1929 সালের 13 জুলাই বিপ্লবীরা অনশন শুরু করে। যতীন দাস এই অনশনে যোগ দেন এবং 63 দিন অনশনের পর 13 ই সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়।

আইন অমান্য আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব : লর্ড উইলিংডন ভারতের বড়লাট নিযুক্ত হলে ইংরেজদের দমন মূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। উত্তরপ্রদেশে খাজনা বন্ধ আন্দোলনে জহরলাল, পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন ও বহু কংগ্রেস কর্মী গ্রেপ্তার হন। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে আবদুল গফফর খান ও তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বন্দী হন। লালকোর্তা সংগঠন বেআইনি ঘোষিত হয়। দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক সেরে দেশে ফিরে গান্ধীজি 1932 খ্রিস্টাব্দের 3 রা জানুয়ারি টেলিগ্রাম মারফত বড়লাট উইলিংডনকে জানান, দমননীতি প্রত্যাহূত না হলে জাতীয় কংগ্রেস পুনরায় আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করবে। সরকার 4 ঠা জানুয়ারি 4 টি নতুন দমনমূলক অর্ডিন্যান্স জারি করে এবং গান্ধী ও বল্লভ ভাই প্যাটেল কে গ্রেপ্তার করে। দেশজুড়ে সর্বস্তরের কংগ্রেস নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়। প্রায় 90 হাজার লোককে বন্দি করা হয়। জাতীয় কংগ্রেস ও তার সকল শাখা নিষিদ্ধ বলে ঘোষিত হয়। কংগ্রেস কর্মীদের কাগজপত্র, সম্পত্তি, অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়। 1932 সাল ধরে সরকার মোট 10 টি অর্ডিন্যান্স জারি করে দেশে ‘পুলিশ রাজ' প্রতিষ্ঠা করে।

সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা : ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে 1932 খ্রিস্টাব্দের 16 ই আগস্ট ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামসে ম্যাকডোনাল্ড ‘সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' ঘোষণা করেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম, শিখ, ভারতীয় খ্রিস্টান, ইউরোপীয় সম্প্রদায়- প্রত্যেক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হয়।

পুনা চুক্তি : সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা নীতির মাধ্যমে  হিন্দু সম্প্রদায়কে বর্ণ হিন্দু ও অনুন্নত হিন্দু সম্প্রদায়ে বিভক্ত করার প্রতিবাদে 20শে সেপ্টেম্বর থেকে গান্ধী যারবেদা জেলে আমরণ অনশন শুরু করেন। 1932 খ্রিস্টাব্দের 25 শে সেপ্টেম্বর তপশিলি নেতা ডঃ বি আর আম্বেদকরের সঙ্গে তার ‘পুনা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মাধ্যমে হিন্দুদের যৌথ নির্বাচনের নীতি স্বীকৃত হয়। সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারার মাধ্যমে স্বীকৃত আসনের দ্বিগুণ আসন তপশিলি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। গান্ধীজি 26 শে সেপ্টেম্বর অনশন ভঙ্গ করেন। গান্ধীজিকে বিনা শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। জাতীয়তাবাদী মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা খুশি হননি। তারা 1933 খ্রিস্টাব্দে লক্ষ্ণৌ-এ ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য সম্মেলন' গঠন করেন।

হরিজন আন্দোলন : 1934 খ্রিস্টাব্দে 8ই মে পাটনায় অনুষ্ঠিত ‘নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি’র অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

মহম্মদ ইকবাল : 1930 খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লীগের এলাহাবাদ অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক মহম্মদ ইকবাল হিন্দু মুসলিম সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে পাঞ্জাব, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ, সিন্ধু ও বালুচিস্তান এই চারটি মুসলিম প্রধান অঞ্চল একত্র করে একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা পেশ করেন।

চৌধুরী রহমত আলী : 1933 খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঞ্জাবি মুসলিম ছাত্র চৌধুরী রহমত আলী ও তার অনুগামীরা ‘এখন অথবা কখনো না' (‘Now or Never') শীর্ষক 4 পাতার এক পুস্তিকায় ভারতের মুসলিম অধ্যুষিত পাঁচটি প্রদেশ পাঞ্জাব (P), উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (আফগানিস্তান প্রদেশ-A), কাশ্মীর (K), সিন্ধু (S), ও বালুচিস্তান (Tan) নিয়ে ‘পাকিস্তান’ নামক পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানান। 1933 খ্রিস্টাব্দে তিনি পাকিস্তান জাতীয় আন্দোলন শুরু করেন।

No comments:

Post a Comment

Note: only a member of this blog may post a comment.